
জোহরানের মা মীরা নায়ার ভারতের বিখ্যাত নির্মাতা। তিনি ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘মিসিসিপি মসালা’সহ বহু আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত সিনেমা বানিয়েছেন। তার স্বামী প্রখ্যাত গুজরাটি লেখক ও অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি। তিনি উগান্ডা থেকে আগত ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ।
মায়ের কারণে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা জোহরান ছোটবেলাতেই মায়ের চলচ্চিত্রজগৎ ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। এমনকি বাঙালি পরিবারের আমেরিকায় পাড়ি দেয়ার গল্পে নির্মিত ‘নেমসেক’ সিনেমা বানানোর সিদ্ধান্তেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
২০০৭ সালে যখন মীরা নায়ারের কাছে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স’ পরিচালনার লোভনীয় প্রস্তাব আসে, তখন তিনি দ্বিধায় পড়েন। বিশ্বখ্যাত সিরিজ না নিজের হৃদয়ের কাছের গল্প? ঠিক তখনই কিশোর জোহরান নিজে হ্যারি পটারের ভক্ত হয়েও মাকে বলেছিলেন ‘নেমসেক’ বানাতে।
মায়ের কাছে সেই কথাই ছিল মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অনুপ্রেরণা। আর সেই ‘নেমসেক’-ই আজও বাঙালি দর্শকের মনে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
এখন সেই অনুপ্রেরণাদায়ী কিশোরই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস লিখলেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জোহরানের বিজয়ের পর মীরা নায়ার ইনস্টাগ্রামে ছেলের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সে শুধু আমার ছেলে নয়, সে আমাদের সময়ের আশার প্রতীক।’
এ যেন সিনেমার বাইরে আরেক বাস্তব ‘নেমসেক’-এর গল্প। যেখানে মায়ের স্বপ্নের পথ ধরে ছেলেই এখন এক নতুন ইতিহাসের নায়ক।
প্রসঙ্গত, মীরা নায়ারের জন্ম ভারতের ওড়িশাতে বাঙালি অধ্যুষিত শহর রাউরকেল্লাতে। আর তিনি বড় হয়েছেন ওই রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরে। সেখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বাঙালি।
তাই তার জীবন ও কর্মে বাংলা ও বাঙালি বড় প্রভাব রেখেছে। ছেলে মামদানিকেও তিনি বাংলা ভাষা শিখিয়েছেন। পরিচয় করিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গেও